Homeজীবনযাপনপ্লাস্টিক নয়, প্রকৃতিই হোক আমাদের ভরসা

প্লাস্টিক নয়, প্রকৃতিই হোক আমাদের ভরসা

একদিন সকালে হাঁটতে বেরিয়ে দেখি রাস্তায়, ড্রেনে, গাছের গোড়ায় পড়ে আছে রঙবেরঙের প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, বোতল। এই দৃশ্য এখন আমাদের কাছে অচেনা কিছু নয়। আমরা সবাই জানি, প্লাস্টিক সহজে মাটিতে মিশে না, অথচ প্রতিদিন আমরা নিজের হাতে এই অমার্জনীয় ক্ষতিটাই করে চলেছি  কখনো জেনেও, কখনো না জেনে।

প্লাস্টিক দূষণ হল পরিবেশ কর্তৃক প্লাস্টিক পদার্থের আহরণ যা পরবর্তীতে যে বন্যপ্রাণবন্যপ্রাণ আবাসস্থল, এমনকি মানবজাতীর ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে৷ আকারের উপর ভিত্তি করে, মাইক্রো, মেসো, অথবা ম্যাক্রোবর্জ্য এই তিনভাগে প্লাস্টিক দূষণকে শ্রেণীকরণ করা হয়। নিয়মিত প্লাস্টিক পদার্থের ব্যবহার প্লাস্টিক দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিক প্লাস্টিক, গৃহস্থালির প্লাস্টিক, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের বেশিরভাগই পুনঃচক্রায়ন হয় না। এগুলো পরিবেশে থেকে বর্জ্যের আকার নেয়৷ মানুষের অসচেতনতাই প্লাস্টিক দূষণের প্রধান কারণ। প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পরিবেশে বিয়োজন অথবা কারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে প্রচুর সময় লাগে। তাই একে “অবিয়োজনযোগ্য পদার্থ” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। সাধারণত উদ্ভিদকূল, জলজ প্রাণী, দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ঐসকল প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাধার সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, মানুষ প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য প্লাস্টিক দূষণ পরোক্ষভাবে দায়ী। শুধুমাত্র আমেরিকাতে প্রতিবছর ৫০ লক্ষ টন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হয়। এগুলোর মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন হয়ে থাকে। অন্য ৩৮ লক্ষ টন প্লাস্টিক বর্জ্যের আকারে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

প্লাস্টিকের নীরব ধ্বংসযজ্ঞ

প্লাস্টিক চোখে দেখা যায়, কিন্তু তার প্রভাব অনেক গভীর। সমুদ্রের গভীরে প্লাস্টিকের স্তূপ জমে প্রাণীরা মরছে, মাটির নিচে জমে কৃষিক্ষেত্র বিষাক্ত হয়ে উঠছে, আর বাতাসে মিশে যাচ্ছে পোড়ানো প্লাস্টিকের গন্ধ , এক অদৃশ্য মৃত্যুর বার্তা।

আমরা ভাবি, “একটা প্লাস্টিক ফেলে দিলে কী এমন হবে?” কিন্তু এই একটাই “একটা” প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ মিলে ফেলছে, আর তাতেই গড়ে উঠছে পাহাড় সমান বর্জ্য।

তাহলে উপায় কী?

  • প্রথমত, আমাদের মন থেকে “প্লাস্টিক ছাড়া চলবে না” এই ধারণাটা বাদ দিতে হবে।
  • দ্বিতীয়ত, প্লাস্টিকের বদলে কাপড়, বাঁশ, মাটির তৈরি জিনিস, কাঁচ বা ধাতব জিনিস ব্যবহার করতে হবে।
  • তৃতীয়ত, দোকানদারদের বলো  “আমার ব্যাগ আছে, প্লাস্টিক দেবেন না।”

 এই দায়িত্ব কার?

শুধু সরকার নয়, এই দায়িত্ব আমার, তোমার, আমাদের সকলের। আমরা যদি আজ একটু সচেতন হই, আগামী প্রজন্ম পাবে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর পৃথিবী।

উপসংহার

প্লাস্টিক শুধু আমাদের চারপাশের পরিবেশকে নয়, আমাদের ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করছে। তাই সময় এসেছে বদল আনার প্লাস্টিক নয়, প্রকৃতির কাছেই ফিরতে হবে। মনে রাখো,
একটি কাপড়ের ব্যাগ হয়তো খুব সাধারণ,
তবে সেটাই রক্ষা করতে পারে আমাদের পৃথিবী

বার্তা:

প্রকৃতিকে ভালোবাসলে, প্রকৃতিও আমাদের ভালোবাসবে। পরিবেশ রক্ষা করতে ছোট ছোট উদ্যোগও হতে পারে বিশাল পরিবর্তনের সূচনা। তাই আসুন, প্লাস্টিক নয়, প্রকৃতিই হোক আমাদের ভরসা।

 References

United Nations Environment Programme (UNEP)

Single-Use Plastics: A Roadmap for Sustainability

https://www.unep.org/resources/report/single-use-plastics-roadmap-sustainability

প্লাস্টিক বর্জ্যের বৈশ্বিক সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত।

National Geographic

Planet or Plastic?
https://www.nationalgeographic.com/environment/topic/planet-or-plastic

প্লাস্টিক দূষণ কিভাবে জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে।

World Wildlife Fund (WWF)
Plastic pollution: How humans are turning the world into plastic
https://www.wwf.org

প্লাস্টিক দূষণ ও টেকসই বিকল্প বিষয়ে WWF-এর তথ্য।

BANGLADESH: Department of Environment (DoE)
Plastic Waste Management Action Plan 2021-2030
https://doe.gov.bd
বাংলাদেশে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা।

EarthDay.org
End Plastic Pollution Campaign
https://www.earthday.org/campaign/end-plastic-pollution
পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বর্জনের জন্য বৈশ্বিক সচেতনতামূলক প্রচারণা।

Science Advances (Peer-reviewed Journal)
Production, use, and fate of all plastics ever made
DOI: 10.1126/sciadv.1700782
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্লাস্টিক উৎপাদনের ইতিহাস ও প্রভাব।

আলোচিত খবর